Tuesday, February 14, 2017

ভ্যালেন্টাইন

দু টুকরো সিক্ত চোখে,
সুগন্ধি তোর প্রেম, বিনাইন,
নিভু নিভু রাতে, আলোয় মাতে,
স্পর্শকাতর ভ্যালেন্টাইন।


দুকলমে প্রেম প্রস্তাব,
কাগজের বুকে হাজার জখম,
সোডা আর পেগে, রাত্রি জেগে,
স্বপ্নগুলো হরেকরকম।

দু হাত খুলে বক্ষে ডাকি,
রক্তে রন্ধ্রে তোর পরিণাম,
এক নিমেষে, হাওয়ায় মেশে,
প্রেম বিরহের যুদ্ধ বিরাম।

Friday, January 13, 2017

থার্মোমিটার

সন্ধ্যা হোলে আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে,
দিনের ধকল, জমাট বাঁধা রক্ত ঘামে,
গলতে থাকে, মার্স জুপিটার।

কথার ওপর জমতে থাকা কথার চাপে,
জামার ভেতর গুটিয়ে থাকা সোহাগ মাপে,
স্পর্শকাতর, থার্মোমিটার।

লোডশেডিং এর অন্ধকারে বাড়ছে মড়ক,
বসছে মাছি, নর্দমা আর নোংরা সড়ক,
তৈরি থেকো, ইনকিউবেটর।

Monday, January 9, 2017

রেনেসাঁ

মাকড়সা জাল বোনে, মরচে পড়ে,
খোদাই করে তুঁতে,
ক্ষুধার শিশু রাস্তাঘাটে, নয়ন ঝরায়,
'বিরাম অস্ফুটে। 

চলদস্তুর মাপকাঠিতে স্তব্ধ বিতান,
পরমক্ষনে কাতর ফিসফিস,
দাসত্বের গালিচা ফুঁড়ে, জন্ম নিলো
রেনেসাঁ, হেরো -- ইলতুৎমিস !

Saturday, December 31, 2016

হাঁসজারু

গুপ্ত যুগে সুপ্ত ছিল যেসব জামা,
বাজারদরের আর্লি কাটে তাদের নামা।
পোকাধরা ময়লা পড়া জংলি হাটে,
লজ্জা শরম বিকিয়ে যারা আজ প্রভাতে,
রাস্তা নিলো, সস্তা ছিল তাদের হাসি,
কেও ডাক্তার, কেও প্রফেসার, কেও প্রবাসী।
শহরজুড়ে ঠান্ডাগরম নামার আগে,
মানিয়ে নেওয়া রেনেসাঁসের দুর্বিপাকে,
যে জনগন, তাদের জন্য রইল আশা,
শীতের সকাল, ধুম্র ঘন রোদ কুয়াশা।

Sunday, December 25, 2016

বাকিটা ব্যাক্তিগত

সে দিনটা ছিল বেপরোয়া,
আলিঙ্গনে আড়মোড়া ভাঙা স্তবকের ভেসে বেড়ানোর স্মৃতি,
দুপুরের মিঠেকড়া রোদে শুকনো হতে থাকা কড়াপাকের হাসি,
আলতো কিছু আবদারে মাখা, স্পর্শে ভেজা মুহূর্ত,
সব এখনও তাজা। 


বোলপুরের লাল মাটি, লবণহ্রদের সবুজ মেরুন যেখানে এক হয়,
সেই পথ ধরে অরও কিছুটা, টলমল করা সময়ের হাত ধরে,
কিছুটা কানে ফিসফিস, বাকিটা আঙ্গুলে আঙ্গুল রেখে,
স্পন্দনে স্পন্দনে, আকাশ কুসুম।

লেনদেন ছিল, চাওয়া পাওয়া ছিল,
ছিল অনেক আটপৌরে গল্পের গন্ধ মাখা,
সিনেমার লালিত্যে ভরা, বাস্তবের বন্ধুরতার ভয়ে সাজানো,
একটি নতুন গল্পের পরিকল্পনা।

তারপর নাগরদোলা, ওপরে নিচে, ডাইনে বাঁয়ে,
ভয়ে আনন্দে ক্লেশে আশায় শ্রিহরনে বিশ্বাসে,
টগবগ করা সঙ্কল্পে,
বাতাসে বাতাসে, মাটিতে জলে এক হয়ে যাওয়ার গল্প।

চিঠি এলো, রঙ্গিন খামে মোড়া,
ঘামের, স্পর্শের, শরীরের, স্নিগ্ধতার গন্ধ মাখা কালিতে লেখা,
বাকিটা ব্যাক্তিগত।

Tuesday, December 6, 2016

দুঃবাস্তব

ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলতেই বেহুঁশ হওয়ার জোগাড়। ঘরের দেওয়াল, দরজা জানালা, টেবিল চেয়ার সব দোমড়ানো। আমার ঘরের আলমারি থেকে কে যেন আমার বই খাতা, জামাকাপড় গুলো দুমড়ে মুচড়ে শূন্যে ছুঁড়ে দিয়েছে। কৌতূহলের বশে অবতল দেওয়ালের বুকে হাত বোলাতে গিয়ে বুকটা ছ্যাঁক কোরে উঠলো। প্রাচীর ভেদ করে গেল আমার হাতের আঙুল। হঠাৎ বুকের মধ্যে একটা তীব্র ডানা ঝাপটানো অনুভব করতে শুরু করলাম। বুকের ভেতর থেকে শ্বাসনালী বেয়ে তীব্র একটা ঝড় যেন গলা অবধি এসে আটকে যাচ্ছে, শরীরের মধ্যে বনবন করে ছুটে বেড়াচ্ছে। চোখে মুখে ঘাম জমতে শুরু করলো। ঘামের ফোঁটাগুলিও যেন কিসব আকার ধারণ করছে। দুমড়ে যাওয়া আয়নার পাশে দাড়াতেই ভয়ে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হলাম। কি বীভৎস আমাদের দুমড়ে যাওয়া রূপ। আমার দেওয়ালে, আমার প্রিয় লাস্যময়ী অভিনেত্রীটিও যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। আমি কি তবে স্বপ্ন দেখছি, নাকি ঘুমের ঘোর এখনো কাটেনি! ডান হাতটা তুলে চোখ কচলাতে গিয়ে প্রায় দম বন্ধ হয়ে এলো, হাত তন্নতন্ন করে হাওয়ায় খেলে বেড়াচ্ছে, কোথায় চোখ, কোথায় মুখের অস্তিত্ব, কোথায় আমি! বেশ কিছুক্ষন চুপচাপ চোখ বন্ধ কোরে বোসে থাকলাম। একটা দুস্বপ্ন শেষ হওয়ার অপেক্ষায়। কিন্তু আবার চোখ মেলতেই, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া সব চোখের সামনে। একটু সাহসে ভর করে, জানালা দিয়ে উঁকি মারলাম। চারিদিকে যা দেখলাম তা গোলোকধাঁদার চেয়ে কম কিছু না। মানুষ, গাছপালা, রাস্তাঘাট, গাড়িঘোড়া, পশুপাখি, দোকান বাজার, সব যেন একটা প্যাঁচানো পাইপেরর মধ্যে ঢুকিয়ে গিঁটের পর গিঁট লাগিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সর্বত্র। তারই মাঝে কোন একটা জায়গায় আমি আমার ঘরের মধ্যে আবদ্ধ। কিছুই হাত বাড়িয়ে ছোঁওয়া যায় না। কোথাও পা ফেলে ভর দেওয়া যায় না, যেন হাওয়ায় ভেসে বেড়াচ্ছি, অস্তিত্বহীন, অবয়বহীন।

 আমাদের বাস্তবটা কি এর চেয়ে আলাদা কিছু? কার্ভড স্পেস টাইম এর বাস্তবতা চাক্ষুষ করতে একবার চোখ মেলে দেখুন চারিদিকে। রাষ্ট্র, সমাজ, পাড়ার গলির আনাচে কানাচে, মাঠের ধারের গাছের নিচে, রাস্তায় দোকানে বাজারে সর্বত্র সবকিছুই দোমড়ানো নয় কি! আমাদের সোজাসাপটা চেহারার পেছনের ভাবনাগুলো কি এতোটাই সহজ সরল! একটা সহজ কথা বলার আগে তাকে দুমড়ে মুচড়ে নেওয়ার স্বভাব আমাদের সবার। শিক্ষা দীক্ষা, সমাজ সচেতনতা নির্বিশেষে আমরা সবাই ওই প্যাঁচানো পাইপের এক একটা চিত্রপট। ঘোরানো প্যাঁচানো গোলকধাঁধায় আমরা জর্জরিত। এক একটা সোজা চলে যাওয়া রাস্তা, এক একটা ওপরে উঠে যাওয়া সিঁড়ি, এক একটা চোখ ধাঁধানো ইমারৎ, এক একটা জমজমাট বাজার পাটের পেছনে লুকিয়ে আছে কতশত তালগোল পাকানো ইতিবৃত্ত। একবার নিজেকে প্রশ্ন কোরেই দেখুন না, একদিন সকালে ঘুম ভেঙে আয়নার সামনে দাঁড়াতে, নিজের বাহ্যিক অবয়বের পরিবর্তে নিজের আভ্যন্তরীণ চেহারা দেখতে পেলে ভির্মি খেতেন না তো!!!

Thursday, July 28, 2016

স্রোত

ডানপিটেদের রাত কাবারি, রক্তজমা ইস্তেহার,
রাত বিরেতে ডাক প্রহরীর, 'জাগতে রো- খবরদার'।
যে যার মত গড়ছে খবর, রাখছে ল্যাজা ছাঁটছে আঁশ,
নিদ্রা চোখে জাগছে মানুষ, উড়ছে ধুলো, রুদ্ধশ্বাস।

ঘড়ির কপাল ছুঁয়ে গেছে গুলি, কাঁটা ঘুরলেই রণ,
স্নাতক পথে বিছানায় শব, সবাই আপনজন।
দোদুল্যমান চিড় ধরা শির, যন্ত্রণা নিয়ে বাড়ছে,
বাঁচার আশায় দিন দিন সব, মরছে অথবা মারছে।

খাওয়া দাওয়া চুকে গেছে, পোড়ে আছে ডাল-ভাত মাখা,
হাওয়া দিলে তবু ওড়ে আকাশেতে ছিন্ন পতাকা।
বাঁধ ভেঙে ধ্বস নামে, পড়ে থাকে ঝুরঝুরে বালি,
আকাশেতে তবু ওঠে সুন্দর চাঁদ একফালি।

Thursday, July 7, 2016

এক নিমেষে

দুদণ্ড সময় ছিল জিরিয়ে নেওয়ার,
দুপশলা বৃষ্টি ছিল নাগাল হাতে,
দুপলকে ভাব বিনিময় মুচকি হাসি, 
মাত্র দু দিন সময় ছিল তোমার সাথে।

এক নিমেষে লাগলো জোড়া দুই পৃথিবী,
এক নিমেষে হাসলো পাখি আকাশ জুড়ে,
শান্ত চোখে পড়লো ধরা ক্লান্তি রেখা,
একনিমেষে গাইল দুজন একক সুরে।

স্নিগ্ধ ছিল তোমার হাসি, আমার বুকে,
মিলিয়ে গেল ক্লান্ত শরীর, হাসির রেশে,
দুদণ্ড সময় ছিল জিরিয়ে নেওয়ার,
একটি ভুবন উঠলো গড়ে, এক নিমেষে। 

Sunday, July 3, 2016

স্কেপ্টিকাল

অনতিদূরে সাইরেন ডাকা শহর, কবরে ঢাকা,
বেওয়ারিশ আবছায়াগুলো কালো, আঁধারের পতাকা,
মুঠো মুঠো ব্যাথা গিলে চলেছে, সারি সারি ঘর বাড়ি,
রকমারি সাজে ঢাকা পড়ে যায় ভাঙাচোরা সংসারি।
গিলছে মাদক, গিলছে বায়ু, স্পন্দনহীন স্নায়ু,
তার কেটে গেছে বহুদিন হোলো, থমকে আছে আয়ু,
রেলরোড ধোরে সোজা চোলে গেলে, শহরের দেখা মেলে,
কয়েদ রয়েছে মুমূর্ষু শহর, জাহান্নমের সেলে।
ওক্টোপাসের অন্ডকোষে পেন্নাম ঠুকে রোজ,
তেল বেগুনের করমর্দনে সুস্বাদু ভূরিভোজ,
স্কেপ্টিকাল, তবু হাতে হাতে, বাহবার ছড়াছড়ি,
রাতের চাদরে, শহরের কোলে, কিন্নর কিন্নরী।
পোড় খাওয়া ঝুরঝুরে, শহরের, রাস্তার জঞ্জালে,
ঠুনকো মৃতপ্রায়, নামানুষের, আত্মারা হাঁটেচলে,
রঙ মেখে সং সেজে, রাশভারী, কংকাল দেয় ঘুম,
তোমার শহর, আমার শহর, পাশাপাশি, শব, নিঝুম।

Saturday, July 2, 2016

বড়লাট

টুপটুপ ঝোরে পড়া সোনালি বৃষ্টির গুঁড়ো,
গায়ে মাখা, মন মাথা ভিজিয়ে নেওয়ার তাড়াহুড়ো,
ফুরফুরে বয়ে চলা ঠান্ডা দখিনের হাওয়া, 
তারই মাঝে লুকিয়ে, হারানো, কত চাওয়া পাওয়া,
দুধসাদা বরফের টুকরো, হাতে নিয়ে খেলা,
সময়ের তাড়া ভুলে, স্নান খাওয়া, রোজ অবহেলা,
তুমি আছো, আমি আছি, আছে কত বৃষ্টির ছাট,
বৃষ্টি ভিজে আজ তুমি লন্ডন, আমি বড়লাট।

Tuesday, June 28, 2016

আত্মীয়তা

তাকিয়ে দেখো, আলোর শহর, আঁধার ঘরে ঘরে, হাল্কা দোলায় শিরদাঁড়াটাও ভীষণ রকম নড়ে। কাঁপতে থাকে রঙের মিছিল গন্ধকেরই সাজে, মুখোস ঢাকা সুপ্ত বদন ডুব দিয়েছে লাজে।
আপন পরের হিসেব যাদের চারদেওয়ালে মোড়া, লাগাম ছাড়ো, পালিয়ে বাঁচুক, আত্মীয়তার ঘোড়া। গুনতে পারো, কলম চালাও, মেলাও দেখি দেনা, মেকি হাসির বদান্যতা আর নেওয়া যাচ্ছেনা।
কুলুপ আঁটা গলার নিচে জমতে থাকা রোষ, দিনদুপুরে ঢিল মেরে যায়, অবাধ আক্রোশ। আড়াল করো লোকদেখানি এসব চেনাজানা, পানা পুকুরে ধরছে পচন, বিষাক্ত যন্ত্রণা।

Saturday, June 25, 2016

প্রেম

ধৃষ্টতা আজ তোমার ঠোঁটের ছোঁওয়া,
ধৃষ্টতা আজ তোমার আলিঙ্গন,
ধৃষ্টতা আজ মনমালিন্য ভুলে
প্রেমের সলিলে বাঁধ ভাঙা বর্ষণ।

পেলবতা আজ তোমার মুখের হাসি,
পেলবতা আজ তোমার চোখের জল,
পেলবতা আজ তোমার শাড়ির ভাঁজে,
লুকিয়ে থাকা মনখারাপের ঢল।

স্নিগ্ধতা আজ তোমার শরীর বেয়ে,
স্নিগ্ধতা আজ তোমার স্পন্দন,
স্নিগ্ধতা আজ একাকিত্বের রাতে,
তোমার আমার অটুট বন্ধন।

Friday, June 24, 2016

সমান্তরাল সরলরেখা

ইংরাজরা দেশছাড়া হয়েছে, সে হোলো প্রায় কয়েক দশক। কিন্তু তারা তাদের পেছনে ফেলে গেছেন তাদের থাকাখাওয়া, চালচলন, আদবকায়দা, পোশাকআশাক, আচার ব্যবহার, আরো কত কি। তবে মাথাব্যাথার কারণ হোলো তাদের আমলের চিরপরিচিত প্রজাতি, মাছি মারা কেরানি, যারা, ইংরাজরা চলে যাওয়ার এতদিন পরেও স্বমহিমায় বর্তমান। না এনারা আজকাল আর মাছি মারেন না কিম্বা কেরানিগিরিও করেন না হয়তো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কুঠুরিতে বোসে জোয়ান চেবান আর বাতেলা দেন। তবে এতে তেনাদের ঐতিহ্য বিন্দুমাত্রও খর্ব হয়না। আজও প্রভু আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে এনাদের জুড়ি মেলা ভার। রাজার মাথার ব্যামো, ওনার ইচ্ছে রাজ্যের প্রজারা সকলে নিজের নিজের মাথায় পাখির ইয়ে মর্দন করুন, তাতে রাজার ব্যামো সারলেও সারতে পারে। ব্যাস ওমনি কেরানির দল সারা রাজ্যের পাখির ইয়ে সংগ্রহে লেগে পড়লেন। এতে দেশের দশের কি লাভ তাতে তাদের কিসসু যায় আসে না।
এনাদের চক্ষু কর্ণ দৃশ্যমান হোলেও তা ব্যবহারের অভাবে নিতান্তই অকার্যকরি। মানুষের ব্যবহার উপযোগী যা কিছু সবই এনাদের অলঙ্কার মাত্র, যা স্থান কাল পাত্র নির্বিশেষে রাজার পায়ে সমর্পণ করতে এনারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে এনারা এনাদের মগজ বাক্সবন্দি করে তালা লাগিয়ে নিয়ে এসে রাজার দরবারে জমা দেন। রাজার হুকুম মত সমস্ত বাক্সবন্দি মগজ পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পথে এনারা পুকুরে ডুব দিয়ে এক একটি বাক্স তুলে বাড়ির পথে হাঁটা লাগান। কে কোন বাক্সের মগজ পেলেন এতে তেনাদের কোনো তফাৎ পড়েনা।
সন্ধ্যের অন্ধকারটা সবে ঘনিয়ে আসছে। আলোর রেস ক্রমশ মিলিয়ে যাচ্ছে দিগন্তরেখা ধরে। কেরানির দল টুপটুপ করে ডুব মারছেন পুকুরের জলে, আর কাদা পাঁক মেখে বাক্সবন্দি মগজ হাতে হাসিমুখে বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন। পথের ধারে তাদের দেখে হাসার মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। এদের দেখে যারা দিব্যি মুখ ফিরিয়ে নিজের নিজের কাজে মন দিচ্ছেন তারা হলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষায় বাবুগন। শুধরে দেওয়া তো দূর অস্ত, কাদা পাঁক থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে রাখতেই তারা ব্যস্ত। এনারা নিজেদের গা বাঁচিয়ে চলতে এতটাই পটু যে প্রবল বৃষ্টিতেও এনাদের ছাতার প্রয়োজন হয় না, দিব্যি সুট প্যান্ট টাই এঁটে বৃষ্টির ধাঁরা থেকে গা বাঁচিয়ে এঁরা অফিস থেকে বাড়ি আর বাড়ি থেকে অফিস ছুটে বেড়ান। চোখের ওপর ঠুলি আর গায়ে সুগন্ধি আতরে এদের চেনা যায়। খাওয়ার টেবিলে, চায়ের আড্ডায়, তাসের আসরে এরা পৃথিবী উল্টেপাল্টে ফেলেন গলার জোরে। তারপর বাড়ি ফিরে এসে সেই কথাগুলি নস্যির কৌটায় ভরে নাকে দিয়ে ঘুম লাগান। হাঁচির সাথে সাথে হাওয়ায় মিলিয়ে যায় সমস্ত যুগান্তকারী বক্তব্যের বাস্তবতা।
অগত্যা দুই শ্রেণির মানুষ দুটি সমান্তরাল সরলরেখা বরাবর হেঁটে চলেছেন। সূর্যের আলো, রাতের জ্যোৎস্না, মেঘ বৃষ্টি, আলো বাতাস, সবই এদের কাছে সমানভাবে পৌছলেও, ব্যাবহারগত ভাবে সব আলাদা আলাদা। এঁরা একে ওপরকে লম্বদূরত্বে দেখেন, ভুরু কোঁচকান, মুচকি হাসেন আর নিজের নিজের পথে দিব্যি হাঁটা লাগান লম্বদূরত্ব বজায় রেখে। যতক্ষণ না সামনাসামনি হচ্ছে এভাবেই চলতে থাকে সব। প্রাকৃতিক শারীরিক কিম্বা মানসিক বিকৃতিজনিত কারণে যদি সামনা সামনি হয়ে যায় এই দুই শ্রেণির, সমস্যাটা সেখানেই শুরু। একবাক্স অকার্যকরী মগজ ও হুকুম মানার অদম্য ইচ্ছা আর একবাক্স নৈরাশ্যের সম্মুখসমরে জয় পরাজয় নির্বিশেষে ক্ষয় হয় সমাজ, ক্ষয় হয় এত শতাব্দী ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা মানব সভ্যতার।
কোন সরলরেখা ধরে হাঁটবো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ব্যাস্ত,সবাই। কিন্তু তার আগে একবার ভেবে দেখলে ভালো হয়, সরলরেখা গুলি কি সত্যিই সরল, নাকি আমাদের সীমিত দর্শন এবং স্তিমিত মগজাস্ত্রের অত্যাল্প আস্ফালনের কারণে আমরা আমাদের চারিপাশের ক্রমচক্রায়িত গ্রন্থিবদ্ধ বাস্তব থেকে বিমুখ।

Sunday, June 19, 2016

লুকোচুরি

ক্লাসটা শেষ হোতে তখনো অনেকটা সময় বাকি। রসায়নের গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডে তখন মন ডুবিয়ে দিয়েছি। হঠাৎ গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডের তেজে মনটা গলে যেতে শুরু করলো। কিছুটা মন সালফেট হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হোলো আর বাকিটা জলের সাথে মিশে ছুটে বেড়াতে লাগলো বিশ্ব ব্রম্মান্ডে। যাবতীয় ক্ষারকিয়, মেঘ বৃষ্টি, প্রেম ভালবাসা, মাঠ ময়দান, ধ্যান ধারনা, সবকিছুর সাথে বিক্রিয়া শুরু হোলো। জমে উঠতে লাগলো স্মৃতির ওপর স্মৃতির অধঃক্ষেপ। আর আছড়ে পড়তে লাগলো একটার পর একটা ঢেউ মনের কিনারে। ক্লাস শেষ হোলো, স্কুল ছুটি হোলো কিন্তু সালফিউরিক অ্যাসিডের প্রভাব গেল না মন থেকে। স্কুল থেকে ফিরছি। চারিদিকে কালো মেঘ ঘনিয়ে এসেছে, বৃষ্টিও পড়ছে সামান্য। কাদামাখা রাস্তা বেয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে চলেছি। হঠাৎ আমার নাম ধরে কে যেন ডাকছে মনে হোলো। আধভেজা একটা কাগজ আমার হাতে গুঁজে দিয়ে যে মেয়েটা আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা করলো না, তাকে রোজ দেখি, কিন্তু তার এই বৃষ্টিমাখা আলোআঁধারি রূপ এর আগে দেখেছি বোলে মনে হোলো না। সে যে পথ দিয়ে ছুটে গেলো সেই পথের দিকে কতক্ষণ যে তাকিয়ে ছিলাম, কোন কোন ভাবনার জগতে যে বিচরণ কোরে বেড়িয়েছি, তার হিসাব শুধু গাঢ় সালফিউরিক অ্যাসিডে ডুব দিলে পাওয়া যাবে। যখন বাস্তবে ফিরলাম, আমার হাতের কাগজটা আমার হাতেই ডেলা পাকিয়ে গেছে। অ্যাসিড ভেজা মনটা, সে যেন ক্ষার মিশিয়ে লবণাক্ত কোরে দিয়ে গেলো। কিজানি আজ হয়তো অন্যদিনের মতই মেয়েটি তার বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মাতবে, কিম্বা হয়তো আমার মতই ভাবনার জগতে বিচরণ করবে, যদি আরেকবার দেখা হয়ে যায় ভাবনার জগতে সেই আশায়। বাড়ি ফিরেছি বেশ খানিকক্ষণ হোলো। বৃষ্টি ভেজা জামাকাপড়, কাদামাখা জুতো এখনো আমায় জড়িয়ে। সেই মুহূর্তের সবকিছুই আঁকড়ে ধরে রাখতে ইচ্ছে করছে। বেশ কয়েকবার মায়ের বকুনি খেয়েছি ইতিমধ্যে। সামনের টেবিলে মুড়ির বাটিটা যেই-কে-সেই। আমি যেন মুড়ির বাটিতে ঢুকে পড়েছি। একেকটা মুড়ির আড়ালে আড়ালে লুকোচুরি খেলছি আর অপেক্ষা কোরে আছি, কেও পেছন থেকে এসে জড়িয়ে ধরবে আর বলবে, ধাপ্পা। মায়ের তীব্র বকুনির জেরে, ভেজা জামাকাপড় ছেড়ে আলমারি থেকে শুকনো গরম জামাকাপড় বের করতে আলমারি খুলে জামাটা যেই বের করতে যাবো, অমনি কে যেন জামাকাপড়ের আড়ালে টুকি বোলে ডেকে উঠলো। মনকে আর আটকে রাখা গেল না। এবার ডুব দিলাম রঙ বেরঙ্গের জামাকাপড়ের সমুদ্রে। যে জামাকাপড় গুলো রোজ ঘামে বৃষ্টিতে ভিজে ছুঁড়ে ফেলি, ফুটবলের মাঠে কাদায় গড়াগড়ি খাই, আজ যেন হঠাৎ সেই জামাকাপড় গুলো খুব প্রিয় হয়ে উঠেছে। আলতো হাতে একটার পর একটা জামা সরিয়ে সরিয়ে দেখতে লাগলাম আর খুঁজতে লাগলাম তাকে। বইখাতা খুলে বসেছি। হঠাৎ বই থেকে সব যেন ডানা মেলে বেরিয়ে পড়তে লাগলো। জ্যামিতির আকার, ক্যালকুলাসের হিজিবিজি, সুদাসলের টাকা পয়সা, ঐকিক নিয়মের দেওয়াল রাস্তা মাঠ শ্রমিক সব যেন ঘরময় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কখনো সমাকলন এর দাঁড়ি আমার মাথায় গাঁট্টা মেরে যাচ্ছে তো কখনো ঐকিক নিয়মের শ্রমিক আমার চুল টেনে বর্গমূলের নিচে লুকিয়ে পড়ছে। সারাটা সন্ধ্যে, সারাটা রাত, এভাবেই লুকোচুরি খেলে গেলাম কতরকম ভাবে। লুকোচুরি খেলতে খেলতে কখন যে ঘুমের দেশে ঢলে পড়েছিলাম খেয়াল নেই। পরের দিন সকালে ওঠা থেকে ভুলেই গেছিলাম আগের দিনের কথা। দিব্যি রোজের মতন স্নান খাওয়া পড়া, স্কুলের শুকনো জামাকাপড়, জুতো মোজা, মায়ের হাতের গরম ভাত, সব কিছুই ছিল সাধারণ। বাড়ি থেকে বেরোতে যাবো, হঠাৎ একটা ফোন। ফোনের ওদিকে বিল্টুদা, আমাদের স্কুলের সিনিয়র। :- কাল আমি স্কুলে যাইনি। বোনের হাতে রসায়ন এর স্যারের নাম্বার টা পাঠিয়েছিলাম। স্যার বোল্লেন তুই নাকি ফোন করিসনি। :- দাদা কাগজটা বৃষ্টিতে ভিজে গেছে, তুমি আমাকে নাম্বার টা বোলে দাও আমি লিখে নি।
সালফিউরিক অ্যাসিডের ছোঁওয়া যে কতটা বিপজ্জনক তা টের পেলাম ঠিকই, তবুও অধঃক্ষিপ্ত স্মৃতিগুলো আজও তরতাজা। তাই সালফিউরিক অ্যাসিড আজও আমার প্রিয়, আজও আমার প্রিয় শব্দ টুকি, আর আজও আমার প্রিয় খেলা লুকোচুরি।

Thursday, June 16, 2016

সঙ্গোপনে

জীবন একটা রঙ্গশালা, ভাঙা গড়ার যাত্রাপালা, প্রেম বিরহ দহনজ্বালা, মুখোস ঢাকা সব।
লোকের মাঝেও হারিয়ে যাওয়া, চোখটি খুলেও হোঁচট খাওয়া, মেকি সকল চাওয়া পাওয়া, ধুসর অবয়ব।
ব্যবহারিক দ্রব্য সকল, ভাব অভিমান সবই নকল, মনমধ্যে কেবল ধকল, অনাবিল তাণ্ডব।
টুকরো কিছু আঁকড়ে ধরে, সবাই আছে বেঁচে মোরে, যে যার নিজের মতন কোরে, সাজায় মোচ্ছোব, সঙ্গোপনে।

Tuesday, June 14, 2016

কর্তৃপক্ষ

ক্যাটাপুল্টে টান ধরেছে, ধকল নিতে রাজি, রুক্ষ ডাঙায় লক্ষ্যভেদী বিফল বোমাবাজি। কালো হয়েছে হেঁসেল-হাঁড়ি অভিজ্ঞতার দামে, আজও আকাশ কালো হোলে প্রবল বৃষ্টি নামে।
উড়ছে ধুলো, তাকলা মাকান, শ্বাসকষ্ট ভারি, ধমনি বেয়ে ছুটছে পারা, তীব্র, স্বেচ্ছাচারী। আগল টানা চোখের কোণে জমতে থাকে ঘাম, ক্ষমতাধারী কর্তৃপক্ষ তোমাকে সেলাম।

Tuesday, May 10, 2016

আদম ইভের ছোঁড়া

তক্তাপোষে পেরেক ঠোকা, কলার বোনে ফাটল, ফিসচুলাতে সুড়সুড়ি দেয় নোঙরা কাঠের হাতল। গন্ধবারির সাপোর্ট পেলে সেপ্টিকে ঘর গড়ে, গ্লাভস পরা হাতে, সততা তোমায় আজও মনে পড়ে।
রক্তমাসের শক্ত ক্লাসে, লাস্ট বেঞ্চার মোরা, দেখলে হবে খরচা আছে, আদম ইভের ছোঁড়া। এম. সি. কিউ. এর পরীক্ষাতে, সমতাবাদি সবাই, ক্ষুধার টানে নির্বিচারে আদ্যোপান্ত জবাই।
সাবেকি আবেগ পোষমানানো, বিশ্বাসে ইউনানি, আর্ট বলতে নাইটশো আর শিক্ষাতে গুলতানি। একটা কথা বোলেই ফেলি ঢের হোলো প্রাইভেসি, মাল মশলার চেয়ে মোদের দেখনদারি বেশী।

Monday, May 9, 2016

Eternity

I hold you so tight, You melt, You melt all over me, Like a river, Like a river you flow, A river over a barren land, Cultivating memories, Memories so sweet.
You make me so happy, I glow, I glow in your eyes, Like a star, Like a star I shine, A star in a dark night, Pioneering your way, Your way towards life.
We love so much, We will burn, We will burn together, Like nothing else exist, Like nothing was there before, Like nothing will come, We will burn, We will burn to eternity.

Tuesday, April 19, 2016

চুপকথা

চোখে চোখে ঠোকাঠুকি, চাহনির সংঘাতে বাজ, শরীরে বাষ্প জমে, কপালে টুকরো কত ভাঁজ, গুমোট আবহাওয়া, থমকে পড়ে আছে কাজ, জানি, বৃষ্টির প্রয়োজন আজ। নীলাকাশে জমে ওঠে শুষ্ক মলিন অবসাদ, আলোর অভাবে কাঁদে একলা ভাঙ্গাচোরা চাঁদ, হীম ঢাকা পর্বত, চারিদিকে সুগভীর খাদ, সুন্দর ঘিরে থাকে দুঃসংবাদ। জং পড়া কলেবরে জমে আছে আবেগের তাল, সময় সুযোগ বুঝে প্রাণপাখি রোজ বেসামাল, শুকিয়ে জমাট বাঁধে মনমরা রক্তের লাল, ছুঁড়ে ফেলো পোষা জঞ্জাল। রঙহারা যানজটে খেলাগাড়ি রোজ চুনকাম, নিজেই নিজের সাথে দিনরাত বহু সংগ্রাম, অকপটে মেনে নেওয়া গল্পের শেষ পরিণাম, আজ হোক মহা ধুমধাম।

Thursday, April 7, 2016

জোট

পাল্লা দিয়ে ওড়াও ধুলো, দিস্তা কাগজ, সস্তা বিল,
মরছে মানুষ, পচছে দেহ, উড়ছে আকাশে শঙ্খচিল। ছুঁড়ছ আরোপ, মাখছ কাদা, 'বিচার বিচার' দিচ্ছ ডাক, রোজ প্রভাতে, প্রাণ নিয়ে হাতে, আমজনতা নিপাত যাক। খাটছে বেগার, ফাটছে রোদে, দীন শ্রমিকের শক্ত চাম, তোমরা শুধু তর্ক কর, কে ঘাসমূল কেই বা বাম। মূল্যবোধের, নীতির অভাব, রাজনীতির এই তল্লাটে, দলাদলির গেরোয় ফেঁসে, রাস্তায় নেমে হল্লা দে। চল উজবুক, চল রে গাড়ল, আজকে মোরাও দল গড়ি, গুন্ডা ষণ্ডা কুত্তা পোষা, বুজরুকিতেও হাতেখড়ি, কেচ্ছা কিছু থাকলে ভাল, নাম লেখানো সহজ হয়, ভোটের পরে, জোটের চিড়ে ভিজিয়ে দিলেই মোদের জয়।