Monday, September 28, 2015

তালপোকা

রাতভর শীতঘুম, অবসরে দিবা খোয়াব প্রীয়,
রণেতে ভঙ্গ দিয়ে অভিসারে সুখটান দিয়ো।
হুজুগে মাতব্বরি, সুযোগে নিওন আলো জ্বেলো,
শাঁখের করাত দিয়ে অফিসেতে কাটাকুটি খেলো।
পুঁথিগত বিদ্যে, চুল দাড়ি, জ্ঞান কচকচি,
স্কুলের রেলিং ধরে, শালবনে অঞ্জন, নচী।
চিবুকে পানের বোঁটা, পেছনে তে কক্সিস বড়,
লোকমুখে শোনা, বাঁসের চেয়ে কঞ্চি নাকি দড়!

Tuesday, August 18, 2015

বোহেমিয়ান

আজকে আবার যাওয়ার পালা - নিরুদ্দেশে ,
রঙ হারানো, জীর্ণ দেহ - রুক্ষ বেশে।
আজকে আবার ফিরিয়ে দেওয়া - আবোল তাবোল ,
ফুরিয়ে যাওয়া , বিশ্রামহীন - গাইতি শাবল।
আজকে আবার তোমার আমার - দীপ্তিশিখা ,
ক্লান্ত দেহ , গুটিয়ে নেওয়া - জীবনরেখা।
আজকে আবার আদান প্রদান - নিয়ম কানুন,
ভাঙাগড়ার কারিগর আজ হিজাব টানুন।  
এবার সময়, কান্না হাসির নাটক ছাড়ো ,
মনের মাঠে কবর পোঁতা - মহেঞ্জোদাড়ো।

Thursday, July 2, 2015

বৃষ্টি দেখবো বলে

বৃষ্টি দেখবো বলে দুপা বাড়িয়ে, কিছুটা হেঁটে থমকে গেছি পথে,
মরা পচা গলা জীবনের স্রোতে দুর্নীতির কর্দমাক্ত প্রাচীর আমাদের সামনে ।
কিছু লেজ মোটা, মাথা মোটা মানুষের সারি দিব্যি তার পাশের রাস্তা বেয়ে চলেছে দিনের পর দিন ,
কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করে চলে যাচ্ছে বেশ ।
প্রাচীরের ওদিকটা দ্যাখার চেষ্টায় উদ্যমের স্ফুলিঙ্গের অভাব ।
বৃষ্টিটা যে ওদিকে,
ভিজতে হলে ভাঙতে হবে প্রাচীর ,
শুধু  দু-এক পসলা ছাটে আমার মন নির্বিকার ।
গুবরে মাথা আর কুবরে ব্যাঙ্ক ব্যালানস ওয়ালা দের পাশ কাটিয়ে দেওয়াল অবধি পৌঁছতে বেগ পেতে হবে নিঃসন্দেহে।
দিনের শেষে সন্ধ্যে হয়েছে বহুদিন ,
গভীর রাতের হাতছানিও অনতিদূর,
বৃষ্টি ভেজা রাতের পর ভোরের আকাশটা খুব সুন্দর ।
শুধু রাতের কৃষ্ণ গহ্বরে বন্দি হওয়ার আগে,
এক তীব্র আবর্তে রাতের অভিকর্ষ কাটিয়ে আবার আলো ফিরে পাওয়ার আশায় ,
বৃষ্টিতে ভেজার আশায় - দুপা বাড়িয়েছি।

Wednesday, March 26, 2014

অসম্পূর্ণ ক্যানভাস

জীবনের ক্যানভাসটা আজ পুরোনো, তেলচিটে , ফ্যাকাশে।
ধুলোপড়া স্মৃতিগুলো আজ-ও ভীঁড় করে তার গায়,
স্মৃতির জানালায় রং বেরঙের পাখিদের কিচির-মিচির শোনা যায় আজ-ও,
গোধুলির রং দেখে উষা ভেবে ভুল করাটা আজ স্বভাব।

আমার ভালোলাগাগুলো সাজিয়ে রেখেছি কুলুঙ্গিতে, সে অনেকদিন হলো!
তারপর আর হাত বোলাইনি পোষা মেনির মাথায়,
সবুজ ঘাসের আগায় জমা শিশির দিয়ে পা ধোওয়া হয়ে ওঠেনি আর,
রাতের আঁধারে, একা বোসে, আকাশের তারাদের সাথে গল্প করার স্মৃতিও আজ অস্পষ্ট।

কত দিন গেছে, কত রাত গেছে,
বাস্তবের সমস্ত অবিচলতার ছায়া পড়েছে স্বপ্নে, 
ধুসরতার গায়ে স্মৃতির জলচছবি গুলো প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে,
কতবার স্বপ্নে আমার কুলুঙ্গিকে আমি করেছি নয়ছয়, নিজের হাতে!

এখন শুধু অপেক্ষা,
সাদা-কালো ছবির গায়ে রঙের শেষ আঁচড়টা না পড়লে এ ছবি যে অসম্পূর্ণ !

Monday, November 18, 2013

সুখ -কল্পদ্রুম!

চলরে সবাই খুঁজতে হবে, খুঁড়তে হবে মাটি,
লুকোনো আছে তারি নীচে, রত্ন নাকি খাঁটি! 
কোদাল শাবল বাগিয়ে হাতে,
ছুটে আয় সব আমার সাথে,
খাটবো মোরা একসাথে আজ, সর্ব দিবস-রাতি-
চলরে সবাই খুঁজতে হবে , খুঁড়তে হবে মাটি।

দেখ রে সবাই খাটছে লোকে, ফেলছে মাথার ঘাম,
রক্ত  দিয়ে গল্প লেখে ছড়ে যাওয়া কালো চাম-
শষ্য ফলায়-পেয়াঁজ আলু ,
চড়া আজ যার মার্কেট ভ্যালু ,
দিনের শেষে ভাগ্য হেসে, হাতে করে চুনকাম-
খুঁজতে হবে রত্ন রে ভাই, চল নিয়ে রাম নাম। 

শুনেছিস ভাই কাঁচের ওদিকে, যারা থাকে সেজে গুজে,
তারা নাকি পেয়েছে আবার দুটো রত্ন খুঁজে,
কত নাচানাচি, আলো রোশনাই,
দেখে শুনে সব মন ভরে যায়,
কত খাওয়া দাওয়া, কত সাজগোজ, মোরা শুধু যাই খুঁজে!
মোদের রক্তে ঘর্মে আলো ওদের পিলসুজে।

দিন কেটে যায় রাত কাটে কৈ, কেন আসেনা ঘুম,
কেন ওদিকটা এতটা জাঁকালো, এদিকটা নিয্ঝুম!
মোরাই ফলাই সোনার ফসল,
মোদের শরীরে সর্ব ধকল,
মোদের জোরেই বছর বছর , নেতাদের শীতঘুম,
চালা রে ভাই শাবল গাইতি, সুখ -কল্পদ্রুম!

Wednesday, July 17, 2013

February-2, 2012

তুমি আমির মাঝে যদি এখনো প্রাচীর আছে,
তুমি শুধু তুমি-ই থাকে, আসে না আমার কাছে।
পারিস যদি ভাঙতে সেই মাঝের বেড়া জাল,
তুমি আর আমি মোদের হয়ে থাকবে চিরকাল।

November-1, 2011

দুই চোখের এক ফোঁটা জল, ভাসিয়ে দিতে পারে সমস্ত চরাচর। 
দুই চোখের এক টুকরো চাহনি, ভরিয়ে দিতে  পারে সমস্ত শুন্যতা। 
দুই চোখের এক বিন্দু আশা, এক রাতে গড়ে দিতে পারে তাজ্মাহাল।

Tuesday, June 25, 2013

সরীসৃপ

মোদের  নাকি  রক্ত গরম, উষ্ণ নাকি পারা ,
মোরাই  নাকি মেরুদন্ডি , শক্ত শিরদাঁড়া।

চায়ের কাপে তুফান তুলি , খবর-কাগজ হাতে,
যে তুফানের গন্ডি বাঁধা, চা-টেবিল এর সাথে।

মোরাই তো সব গলা সাধি, মিছিলে সদলবলে,
সব দেখেও চোখ বুজি ভাই মোরা একলা হলে।
অঢেল জ্ঞানের বোঝা নাকি মদের শিরপরে ,
মোরাই  তো ভাই নির্ভিক-অটুট, আপন আপন ঘরে।
আর বাকিটা বলব কি আর সবাই তো সব জানে,
ভর্তি মোদের শুন্য খাতা দর্প-অভিমানে।
গরম রক্তে মোরাই প্রথম সরীসৃপ এ ভবে ,
চলো-মেরুদন্ড শিকেয় রাখি - জ্ঞানের আসর হবে ..

Wednesday, February 27, 2013

প্রাপ্তি

ফিরিয়ে দেওয়ার আগে,
দু মুঠো আন্তরিকতার সাথে একফোঁটা বিষ মিশিয়ে ছিলাম, যৌনতার,
ফুটপাথ  এর  শেষ আলোতে শেষ বারের মত সেঁকে নিয়েছিলাম,
রক্তের শীতলতা ।
সবুজ ঘাসের অভ্যাশেই আজ আমার জন্ডিস,
ঝুরঝুরে হলুদ রং এর ফ্যাকাশে ক্যানভাসটা  যেন শুধু  আমার।
অর্ধভঙ্গুর ছাদের ওপর ভাঙা আকাশের মত মনের ঘুড়িটা দিকপালহীন,
টিক টিক শব্দে হারিয়ে গেছে
আঁধার রাস্তা,নিরালা মন্দির, আর্ট ফিল্ম এর নাইট-সো,
দিন-রাত-দুপুর-বিকেলের উত্তেজনা।
মদ্য লোলুপতা আর নারীসঙ্গ দুই-ই ঘুচেছে,
জমাট বাঁধা রক্তের স্রোত বইয়ে পেয়েছি ,
সেই সেদিন তোমার গন্ধে হারিয়ে ফেলা নিজেকে। 

Wednesday, December 19, 2012

আমি আজ তোর

তোর চোখে আজ স্বপ্ন দেখা,
হাত ধরে তোর হাঁটতে শেখা,
তোর সাথে আজ জীবন রেখা-
                                ভাবের হুল্লোর।
মোর জীবনের ধুসর পাতায়,
তোর  ছোঁয়াতে রং চড়ে যায়,
সুখ দুঃখের হিসেব ছাড়াই -
                             আমি আজ তোর।

Tuesday, December 18, 2012

বন্দী


হাঁসফাঁস করে  প্রাণ ভোমরা ...বৃথা  এই  কথা বলা,
আঁধারের কালো হাত যে আমার চেপে ধরেছে গলা;
নিজের মধ্যে নিজেই যে আজ হয়ে গেছি আমি বন্দী,
নয়কো অন্য কারুর এযে নিজের-ই  অভিসন্ধি

রক্ত জমে শিকল গড়েছে , শিরায় লেগেছে গীঁট,
নরম হৃদয় জমে হয়েছে তাপহীন কনক্রিট
আটকে পড়েছি ছদ্মজালে, কার জানি এই ফন্দি,
নিজের মধ্যে নিজেই যে আজ, হয়ে গেছি আমি বন্দী।

Monday, June 25, 2012

মহাপ্রয়ান


দুরবিনে চোখ রেখে...বুজেছিলাম চোখ...
শীতলতার স্পর্শেও তাই আজি ছ্যাঁকা লাগে গায়..
নাভিমূল বেয়ে যবে উর্দ্ধে ওঠে পারা..
রোমে রোমে...সারা গায়ের আড়মোড়া ভাঙে..বিসম জ্বালায়..
খুঁজে পাওয়া স্রোতস্বিনী...সাহারার বুকে..
লোনা জলে....বিস্বাধ মুখ...তৃষ্ণা মেটে কই...
রোজের এই পথ চলা...ভালবাসার সুখে...
কাঁটা পায় ..গায়ে জ্বর...বেদনা অথই...
যদি হোও হলাহল...একবার এসো..
মন ভরে তোমায় আজ করব যে পান..
শেষ বারের শীতলতা বাঁচিয়ে রেখে মনে..
হোক শেষ তবে মোর প্রেমের সন্ধান...
হোক মহাপ্রয়ান...

Sunday, June 24, 2012

আম চুরি

চল যাই, গিলে খাই, মগজের ঘিলু..
আম গাছ, মোরা  পাঁচ , সাথে নেই বিলু ....
রাম বাবু, দুধ সাবু, খায় গবগব ....
এই ফাঁকে , গাছ টাতে , উঠে পড়ি  সব ...


ওরে হরি,তড়িঘড়ি , খাওয়া হলো সার ...
যদি গাছে, দ্যাখে পাছে , তবে এইবার ...
হাড়-গোড়, তোড়-ফোড়, করে তবে ছাড়ে ...
মোটা হাতি , যমের নাতি, রঘুপতি পাঁড়ে ...


দ্যাখ ওই, হাতে মই , রাম বাবু আসে...
হাতে লাঠি , রঘুপতি , ওই যে তার পাসে ...
এই মরি, কি করি, দেব নাকি লাফ ...
মার দৌড় , হে গৌর , রক্ষে কর বাপ ...


যদু শালা, চল পা, লাফা চট পট ....
রঘু..ওরে , লাঠি ধরে, চায় কটমট ....
ছাড় আম, আগে নাম, প্রাণ আগে ভাই ...
ওই লাঠি, খাবো এমন, ছাতি মোর নাই ...


কাল রাতে, তোর পাতে, কাটা আম দেখে ...
মন মোর , আম খোর , উঠেছিল চেগে ...
তুই ছোঁড়া , নষ্টের গোড়া , মার যদি খাই ..
মারে মোর, ভাই তোর , নিস্তার নাই ....


মন ভরে , চুল ধরে, দিলেম এক টান ...
এক খোঁচা, যদুর কোঁচা, খুলিল সটান ...
রাগে ব্যাটা, এমন ঠ্যাটা, মারলো এক চড় ...
ব্যাস শুরু , গুরু গুরু, মোদের  সমর ...
এই দেখে, রাম রঘু, লাঠি-সটা ফেলে ...
টানা টানি, পদ-পাণী, বিসম আক্কেলে ...


হাতে দুই, আম থুই , রাম বাবু বলে ..
এই নাও, আম খাও, যাও ঘর চলে...
কাড়া কাড়ি, মারা মারি, করে নাকি বাবু ...
কচি ছেলে, আম খেলে, দাঁত হবে কাবু ...


ফিরি ঘরে, মহাদরে, আম খেতে খেতে ...
এরপর..বাদাম চুরি ..বাবুদের ক্ষেতে ....

Thursday, June 21, 2012

পোড়ার নেশা

আজ অভিমান ,
দিন্ভরের ক্লান্তির পর ঠোঁটের কোণে  তোমার অভাব ...
শুধু  স্মৃতি জড়িয়ে থাকা....
আমার আঙুল বেয়ে তোমার অবয়ব ..

পুড়ে যাওয়ার অভ্যেস তোমার আগুনে...
আজ আমার সঙ্গী..

ঠোঁটের কোণে জমে উঠছে ঘাম...
নিসপিস করছে আঙুল ...
শ্বাসনালী বেয়ে ভেতর অবধি ..অভাব শুধু তোমার ...
কে তুমি ??
সিগারেট ..নাকি আমার কপাল..
রোজ পোড়ে ...ধুসর ধোয়ার  গন্ধে হয় নেশা..
তবু রাজি পুড়তে ...
পুড়ে পুড়ে  কয়লা হয় ছাই ...আর চেনা যায় সোনা ....

তাই আমার পোড়ার নেশা ......

অস্পৃশ্য

দিনের পর দিন পড়ে থেকে ধুলো জমেছে গায় 
ব্যবহারের অভাবে আজ মরচের দাগ প্রকট ..
আলো বাতাস বৃষ্টি সবই ওই ধুলো আর মরচের আস্তরণে ধাক্কা খেয়ে ফিরে যায় 
আমি আজ তাই অস্পৃশ্য.....
কর্ণপটহে তরঙ্গের ঢেউ এর সনসন আর নেই,

নেই কনিনিকায় ঠিকরে পরা রামধনুর খেলা,
চিত্কার করেও আজ সাড়া  নেই কোনো...
আমার আর তোমাদের মাঝে...একটা কাঁচের  প্রাচীর ...
চুলে পাক ধরেছে জ্যোত্স্নার রঙে ,
আজ আর জ্যোত্স্না আমার বারান্দায় ছোয়ায়  না তার ঠোঁট!

যৌবনের রং তো স্পর্শে সঞ্চারিত..
আর আমি তো অস্পৃশ্য ....

Saturday, June 16, 2012

সঙ্গোপনে

জীবন একটা রঙ্গশালা,
ভাঙা গড়ার যাত্রাপালা,
প্রেম বিরহ দহনজ্বালা,
মুখোস ঢাকা সব। 


লোকের মাঝেও হারিয়ে যাওয়া,
চোখটি খুলেও হোঁচট খাওয়া,
মেকি সকল চাওয়া পাওয়া,
ধুসর অবয়ব।

ব্যবহারিক দ্রব্য সকল,
ভাব অভিমান সবই নকল,
মনমধ্যে কেবল ধকল,
অনাবিল তাণ্ডব।

টুকরো কিছু আঁকড়ে ধরে,
সবাই আছে বেঁচে মোরে,
যে যার নিজের মতন কোরে,
সাজায় মোচ্ছোব,
সঙ্গোপনে।

Wednesday, June 13, 2012

আমার দাবি মানতে হবে

আমি যৌনতা
রোজ সকালের ম্যাগাজিন এর পাতা থেকে শুরু করে ...
টি ভি চ্যানেল এর add  movie  serial  এ আমি তোমাদের ই মাঝে ...
দিনে একই কাগজের পাতা, একই টিভি চ্যানেল বারবার ঘোরে শুধু আমার জন্য ...
রাস্তায় রাস্তায় ছেলে মেয়েদের চোখে চোখে আমার আবেদন....
রাতের বিছানায় আমি কারুর সঙ্গী তো কারুর স্বপ্ন ...
আমায় ছাড়া তোমাদের জীবন ফ্যাকাশে ...রংচটা ....
অথচ আমায় নিয়েই তোমাদের এত সমস্যা...
সেন্সর এর ধাক্কায় আমি ভেঙে  চুরে যাই ...সিনেমার পর্দায়...লেখার পাতায় ...
আর যারা আমায় কেটে ছেটে আমার অঙ্গহানি করে...
রাতের বিছানায় তারাই সব থেকে খুসি আমার ওপর...
কেন এই দ্বিরুপতা ...কেন এই অনাচার ...
প্রেম বিরহ ভাব ভালবাসার মত
আমাকেও দাও না কেন একটা স্বাধীন স্বত্তা...
আমিও বাঁচতে চাই তোমাদের ই মাঝে ...
আমার সম্পূর্ণতা নিয়ে...

Tuesday, June 12, 2012

এবার কপালে চালাব কলম

তিনকাল গিয়ে এককালে ঠেকেছে আমার লেখা..
আজ একটু খাতার ওপর কলম চালানো বন্ধ করে...
নিজের কপালে কলম চালাব বলে....
হাতে নিয়েছি...ছুরি....
দুপাশে বনবিথী আর পেছনের ওই পানাপুকুর ছেড়ে...
আমি তখন এগিয়ে চলেছি ক্রম সংকুচিত একটা রাস্তায়...
গাছের শুকনো পাতার কার্পেট এ পা ফেলে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল...
এভাবেই বুঝি এগিয়ে যাওয়া যাবে সমস্ত টা পথ...
পাখিদের কলকন্ঠের কাকলি আর  মৃদুমন্দ বাতাসে..মন শ্রীহরিত...
হঠাত মাথার ওপরের সূর্য টা কেমন যেন জ্বলে উঠলো..
টগবগিয়ে ফুটতে  লাগলো সারা শরীর....
মৃদু হওয়া  বদলে যেতে লাগলো ঝড়ে...
শুকনো পাতার গা বেয়ে বেরিয়ে আসতে লাগলো..কাঁটার আবরণ ...
বিঁধতে লাগলো পায়ে...
কিছুটা চলার পর...
রসনেন্দ্রিয়ে
আড়ষ্ঠতা  আর গমনেন্দ্রিয়ে ক্লিষ্টতা অনুভব করলাম ..
স্নায়ু  বেয়ে তীব্র বিদ্যুতের চলাচল টের পাচ্ছি....
আর শিরায় শিরায় উষ্ণ পারার স্রোত...
চোখ কান  মুখ ঘিরে একটা জমাট বাঁধা ধোয়ার গরম কুন্ডলী... 
আর বাড়িয়ে রাখা হাতের পাতায় একটা শীতল স্পর্শের প্রবল আকুতি....
সব কিছু বদলে যেতে লাগলো..ডান বাম অগ্র পশ্চাত ...সব...
সুন্দর পদ্যের পরিবেশ টা  রুপান্তরিত হলো চরম  বাস্তব গদ্যে..
আর তাই ছুঁড়ে ফেলে দিলাম কলম..আর হাতে তুলে নিলাম ছুরি..
এবার সেই ছুরি আছড়ে পড়বে..কপালের ভাঁজে..
তারপর যদি আবার আসে ফিরে...সেই সুন্দর কাব্য..
তোমরা কেউ আমার জন্য আবার কলম ধোরো.

Sunday, June 10, 2012

অপসারি জীবন

ওই রংচটা পথ বেয়ে
নেমে এসেছিলাম আবছা অন্ধকারে ...
নির্লিপ্ততায় ভর করে পা বাড়িয়েছিলাম কোন অজানার সন্ধানে...
আর আজ সেই অজানাটা  অনেকখানি জানা...
অন্ধকারের তরঙ্গ মুখটা  আজ ও দশা পরিবর্তন করেনি ...
তবে..ধংসাত্মক ব্যতিচারের পাস কাটিয়ে ...
আজ যেন একটা স্থির বিন্দুতে এসে মিশেছে  সমস্ত বলরেখা ...
একটি স্থায়ী স্থির বিন্দু ...
চারপাশের বিচলনের প্রভাব আজ সীমিত....
এবার শুধু অপেক্ষা...
কবে এই অন্ধকার কে ঘিরে তৈরী হবে এক জোতির্ময় আলোকবর্ত...
আর তার পাসে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে ....
শত শত নক্ষত্র ..
তৈরী হবে একটা নতুন নক্ষত্রমণ্ডল ..
শেষ হবে একটা নতুন জীবনের সন্ধান...
আর তারপর....
সেই এক-ই ইতিবৃত্ত প্রত্যেকটি নক্ষত্র কে ঘিরে ...
আবার অন্ধকার এ পা বাড়ানোর সাহস...
আবার নতুন নক্ষত্র মণ্ডল এক একটি নক্ষত্র কে ঘিরে .....
এক অপসারি শ্রেণী .....জীবনের .....

Friday, June 8, 2012

কাব্যের খোঁজে

কয়েক  ফোটা  দ্রাক্ষারস ...এক টুকরো আফিম....
দপদপ করে মাথা ....আলো টিমটিম...
অনিয়ন্ত্রিত পদলালিত্য ...আর আধো আধো বোল...
চরিদিক মায়াময় ...সবেতেই ঝোল......
ক্লিশ ধরা সময়.....টিক টিক বয়...
মগজাস্ত্রের অপপ্রয়োগ আর প্রানের অবক্ষয়...
স্বাধ হীন সময়ে তরঙ্গের লেশ...
যেথায় ভাবি এই শুরু ...সেথায় দেখি শেষ ....
হাত পা চোখ মুখ ....কান ...সব ঢেকে....
মায়াময় গদ্যের কান্ডারী দেখে ....
আজ আমি নিশ্চুপ কাব্যের খোঁজে....
মোর কাব্যই মরে শুধু বোঝে.....
তাই
আবার দ্রাক্ষা আর আফিম অ বুঁদ হয়ে...
কাব্যের খোঁজে যাব বয়ে .....
চির অবক্ষয়ে .....